স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: সংসারের ভার টানতে না পেরে স্বপরিবারে স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আবেদন জেলা প্রশাসন,মুখ্যমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির কাছে। ঘটনাটি মালদহের ইংরেজবাজার থানার ২৫নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজী পার্ক এলাকায়। আর এই ঘটনা জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসেছে রাজনৈতিক দলগুলি।

রাজনৈতিক দোষারোপের পালা না করে সবাই এই ঘটনার জন্য বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিকেই দায়ি করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মুক-বধির মানুষ চুমকি সিংহ। তাঁর স্বামীও ছিলেন মুক-বধির। চলতি বছরের জুলাই মাসে স্বামী প্রয়াত হন। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ছিলেন অসুস্থ।

স্বামী ও একমাত্র ছেলেকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে স্থান না পেয়ে বাপের বাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে মূক-বধির মানুষটি সেলাই করে সংসার চালাতেন। তাঁর বাবা সদাই সিংহ বিদ্যুৎ পর্ষদের প্রাক্তন কর্মী। তিনি পেনশন পান না। অবসর নেওয়ার পর যা টাকা পেয়েছিলেন তিন মেয়ের বিয়ে দিতে ও বাড়ি করে সমস্তটাই প্রায় খরচা হয়ে যায়। বাকি যা ছিল তা চিটফান্ডের রেখেছিলেন। তাও চিটফান্ড কাণ্ডের জেরে হাতছাড়া হয়।

মা মনিকা সিংহ গৃহবধূ। একমাত্র পরিবারে তিনি সক্ষম। মূক ও বধির মেয়ে চুমকি সেলাই করে সংসার চালাতেন। টানা লকডাউন ও করোনা পরিস্থিতির জেরে আর কাজ জুটছে না।

সংসারের চরম অভাব। সামাজিক লজ্জার ভয়ে অভাবের কথা কাউকে বলতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে মনিকা সিংহ এবার মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রপতির কাছে পরিবার সমেত স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানিয়েছেন।

মা মনিকা সিংহের দাবি যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি,অভাবের তাড়নায় এমনি মরে যাবেন। কারণ মেয়ের রোজগার নাই। পরিবারে আর কেউ রোজগার করে না।স্বামী অসুস্থ। এই পরিস্থিতিতে তাদের মৃত্যু ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

ঘটনাটি জানতে পেয়ে স্থানীয় সিপিএম কাউন্সিলর দুলাল নন্দন চাকী বলেন, ঘটনাটি “অত্যান্ত দুঃখজনক। তার এক হ্যান্ডিকাপট মেয়ে রয়েছে। তার আমি ভাতা করে দিয়েছি। আমরা তো ভাবতে পারিনি একজন চাকুরীজীবি মানুষের স্বামীর মৃত্যুর পর এতটাই খারাপ অবস্থা। সেটা হয়তো সামাজিক লজ্জার কারনে বলেননি। আমরা তা দের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বার্ধ মত সাহায্য করবো। মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য যা যা করা উচিত আমরা তা করবো।”

স্থানীয় বিজেপির সাধারন সম্পাদক অজয় গাঙ্গুলী বলেন, ঘটনাটি অত্যান্ত মর্মান্তিক। আমরা রাজনৈতিক ব্যবক্তিত্ব যারা রয়েছি আর সমাজ এর জন্য দায়ী। কারন উচ্চবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের অসুবিধা হয় না। কিন্তু মধ্যবিত্তদের একটা আত্ম সন্মান থাকে। যার ফলে তারা কোথাও যেতে পারে না। দ

লের পক্ষ থেকে আমরা ওই পরিবারটির পাশে থাকবো। আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দল ও সরকারকে বলবো এর পাশে থাকতে। একজন স্বেচ্ছায় মৃত্যুর আবেদন করবে আর আমরা রাজনৈতিক দল গুলি বসে থাকবো এটা হতে পারে না।

জেলা তৃণমূলের মুখোপাত্র শুভময় বসু বলেন, “ওই পরিবারের কাছে আমাদের আবেদন, অবিলম্বে তাঁরা জেলাশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অ্যাপ্লিকেশন জমা করুন। আমরা দলীয় স্তরে ব্যবস্থা নেবে। এই বাংলার সরকারে কাউকে স্বেচ্ছায় মৃত্যু হতে হবে না। না খেয়ে মরবে তা কখনও হবে না।”

জেলা কংগ্রেসের সাধারন সম্পাদক কালি সাধন রায় পলেন, “আমরা যারা রাজনৈতিক দল করি তারা খোঁজ রাখি না। আমাদের জানা উচিত খোঁজ নেওয়া উচিত ছিল। সে প্রতিবন্ধী ফলে তাঁদের চাওয়া পাওয়া বলতে পারে না। এটা আমাদের দায় লজ্জা জনক। সভ্য সমাজে এটা আকাঙ্খিত নয়। আমরা ওই পরিবারের পাশে দাঁড়াবো।”

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।