- Advertisement -

রায়গঞ্জ: শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে গেলেও উত্তর দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ে সরকারি পাঠ্য বই এখনও পৌঁছায়নি। ফলে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ারা পড়েছে বিপাকে। কবে নাগাদ সমস্ত পাঠ্য বই পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সেবিষয়ে জেলা শিক্ষা দফতর স্পষ্ট কিছু জানাতে পারছে না বলে অভিযোগ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধানদের।

বিদ্যালয়গুলিতে পর্যাপ্ত পাঠ্য পুস্তক না আসায় শিক্ষক-শিক্ষিকারা বাধ্য হয়ে প্রাপ্ত পাঠ্যপুস্তকগুলি পড়ুয়াদের মধ্য ভাগাভাগি করে দিচ্ছেন। ক্লাস শুরু হয়ে যাওয়ার ১০দিন হয়ে গেলেও সমস্ত পাঠ্যপুস্তক হাতে না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা। অন্যদিকে, জেলায় পর্যাপ্ত সরকারি টেস্টপেপার  না আসায় বিপাকে পড়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে। অথচ জেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা  ওই টেস্ট পেপার এখনো পায়নি।

- Advertisement -

পাঠ্যপুস্তক ও টেস্টপেপারের অভাবকে হাতিয়ার করে কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী ফটো কপি করে চড়া দামে বাজারে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ। উত্তর দিনাজপুর জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) নারায়ণ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘‘প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধানদের কাছে পাঠ্যপুস্তক ও টেস্ট পেপারের চাহিদার তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী  বিদ্যাগুলিকে বই দেওয়া শুরু হয়েছে। আশা করি আগামী সাতদিনের মধ্যে নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক ও মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের টেস্টপেপার বিদ্যালয়গুলি পেয়ে যাবে।’’

উত্তর দিনাজপুর জেলা সর্বশিক্ষা মিশনের প্রকল্প আধিকারিক প্রবীর পাত্র বলেন, ‘‘বিপুল পরিমাণ বই রাখার মতো গোডাউন না থাকার জন্য সমস্যা হয়েছিল। প্রাথমিকস্তরের পড়ুয়াদের সমস্ত পাঠ্যবই দিয়ে দেওয়ায় গোডাউনগুলি খালি হয়েছে৷ তাই ষষ্ট থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সমস্ত পাঠ্যবই এবার গোডাউনে রাখা হবে। শীঘ্রই বিদ্যালয়গুলিতে সমস্ত পাঠ্য বই দিয়ে দেওয়া হবে।’’ রায়গঞ্জ ব্লকের হাতিয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনিরুদ্ধ সিনহা বলেন, ‘‘পর্যাপ্ত সংখ্যক পাঠ্যপুস্তক না পাওয়ায় বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠনে সমস্যা হচ্ছে। কবে নাগাদ পড়ুয়ারা সমস্ত বই পাবে এখনও শিক্ষা দফতর স্পষ্টভাবে না জানানোয় ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে অভিভাবকদের কাছে।’’ বঙ্গীয় মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির চাকুরিয়া ব্লক কমিটির আহবায়ক বিশ্বনাথ মৃধা বলেন, ‘‘বর্তমান রাজ্য সরকার ছাত্র ছাত্রীদের ছিনিমিনি খেলছে। আমরা সংঠনগতভাবে পাঠ্যপুস্তক ও টেস্টপেপার শীঘ্রই ছাত্র ছাত্রীদের দেওয়ার জন্য জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে আবেদন জানাবো।’’ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি  অসীম রঞ্জন দাস বলেন, ‘‘আমরা শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি বিদ্যালয়গুলি সমস্ত পাঠ্যবই ও টেস্টপেপার পেয়ে যাবে।’’