সভা করতে বাধা দেওয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করবে বিজেপি

শুভেন্দু ভট্টাচার্য, কোচবিহার: বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি দিচ্ছেনা পুলিশ। পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা দায়ের কথা ভাবছে বিজেপি। আজ, কোচবিহারের জেলা কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে এমনটাই জানালেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে এই ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে দল।’’

রোজভ্যালিকাণ্ডে তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারের পর কোচবিহার জেলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূল কর্মীরা বিজেপির পার্টি অফিসে ভাঙচুর চলায় ও কর্মীদের উপর হামলা চালায়৷ এমনকি কলকাতার রাজ্য কার্যালয়ও বাদ যায়নি তৃণমূলিদের হামলা থেকে। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত ৬ জানুয়ারি কোচবিহার শহরে মিছিল ও ধর্নার কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি পুলিশ। এরপর ফের কোচবিহারের মাথাভাঙ্গায় স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী পালনের অনুমতি পেল না বিজেপি। শুধুমাত্র কোচবিহার নয়, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানেই একই কায়দায় বিজেপির কর্মসূচি বন্ধ করতে চাইছে তৃণমূল। বুধবার কোচবিহার জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই  অভিযোগ করেন বিজেপির রাজ্য সম্পাদক প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, কোচবিহারে দলীয় বৈঠকে যোগদিতে আসেন তিনি।

এদিন তিনি বলেন, ‘‘যে সব থানার ওসি বা আইসিরা বিজেপির কর্মসূচিতে অনুমতি দিচ্ছেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যাবার চিন্তা ভাবনা করছে দল৷ এই ব্যাপারে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে৷’’ প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘‘রাজ্যজুড়ে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে অনেকেই যোগদান করছে৷ আর তাতেই আতঙ্কিত হয়ে বিজেপির কর্মসূচিগুলি বানচাল করার চেষ্টা করছে শাসক দল।’’ বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বলেন, “রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের গুণ্ডারা বিজেপি নেতাদের উপর হামলা করছে৷ যা আগে কোনও দিন এই রাজ্যে ছিলা না৷ মনে হচ্ছে, যেভাবে একে একে তৃণমূলের নেতারা জেলে যাচ্ছেন, আরও অনেকেই ফেঁসে যাবেন৷ এই আশংকায় উৎসাহহীন হয়ে পড়েছেন তৃণমূল কর্মীরা৷ তাই তাঁদের চাঙ্গা করতেই দলনেত্রী কর্মীদের দিয়ে রাজ্যজুড়ে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন৷”

- Advertisement -

এদিন তিনি দাবি করেন, ‘‘রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় দলে দলে তৃণমূল কর্মীরা বিজেপিতে যোগদান করছেন।’’ এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি কোচবিহার জেলা সভাপতি নিখিল রঞ্জন দে, জেলা সাধারণ সম্পাদক উৎপল কান্তি দেব, রাজ্য কমিটির সদস্য হেমচন্দ্র বর্মণ প্রমুখ। জেলা সভাপতি নিখিল রঞ্জন দে দাবি করেন, ‘‘শাসক দলের বেশ কিছু নেতা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বিজেপিতে যোগদান করার জন্য। কিছু দিনের মধ্যেই তাঁদের অনেকে বিজেপিতে যোগ দান করবেন।’’

All rights reserved by @ Kolkata24x7 II প্রতিবেদনের কোন অংশ অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ
-