হাইকোর্টের পরামর্শ উড়িয়ে বাবুলকে বেকায়দায় ফেলল তৃণমূলের পুরবোর্ড

স্টাফ রিপোর্টার, আসানসোল: মেলা নিয়ে হাইকোর্টের সমালোচনাতেও কান দিল না আসানসোল পুরসভা৷ এতকিছুর পরও বাবুল সুপ্রিয়কে রেলের মাঠে মেলা করার অনুমতি দিলেন না মেয়র জিতেন তিওয়ারি৷ তাঁর যুক্তি, বাবুল যে মাঠে সভা করতে চান তার চারদিক পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। ওই মাঠে সর্বোচ্চ ১০ হাজার লোকের জায়গা হতে পারে৷ ওখানে শিল্পীরা এলে মাঠে প্রচুর জনসমাগম হবে। তাতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে অনেকের। বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত৷ তাঁর পাল্টা প্রস্তাব চারদিকে খোলা কোনও মাঠে মেলার আয়োজন করুন বাবুল।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মেলাটির আয়োজনে ব্যবস্থা করে৷ আসানসোলের রেল স্টেডিয়ামে ১২ জানুয়ারি থেকে হতে চলা ‘সাংসদ মেলা’-কে অনুমতি না দেওয়ায় মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টে সমালোচিত হয় আসানসোল পুরসভা। বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের প্রশ্ন ছিল, রাজ্যে যত মেলা হয়ে থাকে, সেগুলির ক্ষেত্রেও কি স্থানীয় প্রশাসন এমন প্রশ্ন তোলে? ময়দানে চলা গঙ্গাসাগরের পূণ্যার্থীদের অস্থায়ী শিবিরের ক্ষেত্রেও কি নিকাশি ব্যবস্থাসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রশ্নগুলি তোলা যায় না? আসানসোলের যেখানে ওই মেলা হবে, সেখানে আগে যেসব মেলা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও কি একইরকম শর্ত আরোপ করা হয়েছিল? সেইসব তথ্য পেশ করার জন্য আদালত কি নির্দেশ দেবে?

রেলের জমিতে দমকলের অনুমতি নিয়ে মেলাটি করতে চাইলেও আসানসোল পুরসভার এক প্রতিনিধিদল সম্প্রতি সেখানে পরিদর্শন করে জানিয়ে দেয়, অনুমতি দেওয়া যাবে না। সেখানে নিকাশি ব্যবস্থা বলে কার্যত কিছুই নেই, মেলাস্থলের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ অপরিসর ইত্যাদি আপত্তির কথা বলা হয় পুরসভার তরফে।

এই প্রেক্ষাপটে বিচারপতি ওই প্রশ্ন তুলে বলেন, সম্প্রতি তিনি নিজে এক ‘আইন মেলা’য় গিয়েছিলেন। যেখানে প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ এসেছিলেন। নিজেদের আইনি অধিকার নিয়ে জানতেই এসেছিলেন অত মানুষ। যা দেখে তিনি বিস্মিত। একথার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধরনের মেলার গুরুত্ব এই কারণেই যে, মানুষ তার অধিকারের পাশাপাশি সরকারি সুযোগ সুবিধার কথা জানতে পারে। বিশেষত গ্রামীণ ও সমাজের নীচের স্তরে থাকা মানুষ। তাই পুরসভাকে বুধবারই ওই প্রস্তাবিত মেলাস্থল ফের পরিদর্শন করে কোনওরকম বাইরের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে অনুমতি প্রদান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে।কিন্তু বিচারপতির এই পরামর্শ কার্যত উড়িয়ে দিল পুর কর্তৃপক্ষ৷ যদিও, এবিষয়ে পিছু হঠতে রাজি নন বাবুলও। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মেলা হবেই। আজ হোক বা কাল।